বুধবার, ১৭ Jun ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন
মুহাম্মদ আব্দুল বাছির সরদার:
বৈশাখী ব্যস্ততা শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি সময়ে পালিত হলো পবিত্র ঈদুল আযহা। এ বছর চৈত্রের শেষ দিকে অতি বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় ১৬ হাজার ৭৮৬ হেক্টর বোরো ধান জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যায়। এ অবস্থার মধ্যেই সাধারণ কৃষক পরিবারসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ ঈদুল আযহা উদযাপন করেন সামর্থ্য অনুযায়ি। বছরের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে কোনো কার্পণ্য যে হয়নি, তা কুরবাণীকৃত পশুর হিসেব দেখেই বুঝা যায়। এবারের পবিত্র ঈদুল আযহায় কুরবাণীযোগ্য প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে জবাই করা হয়েছে ৫০ হাজার ২০৮টি। এরমধ্যে গাভী ও বকনা ছয় হাজার ৫৪১টি, ষাঁড় ও বলদ ৩১ হাজার ৬২২টি, মহিষ ৩৯৭টি, ছাগল সাত হাজার ৬১৩টি, ভেড়া চার হাজার ৩৫টি। তবে কুরবাণীর জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিলো প্রায় ৫৩ হাজার পশু। যার বাজার মূল্য তিনশ ৬১ কোটি এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা। তবে এ বছর চারশ কোটি টাকার পশু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মোঃ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় মোট আট হাজার ৬৭১টি, এরমধ্যে গাভী ৯৭৮টি, ষাঁড় চার হাজার ৯৩১টি, মহিষ ৫১টি, ছাগল এক হাজার ৭৫৪টি, ভেড়া ৯৫৭টি, টাকার পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ছাতকে আট হাজার ৫১৮টি, এরমধ্যে গাভী এক হাজার ৪৮টি, ষাঁড় পাঁচ হাজার ৮৩৫টি, মহিষ ৮৮টি, ছাগল ৯৫৪টি, ভেড়া ৫৯৩টি, যার বাজার মূল্য ৬৪ কোটি ৫৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। জগন্নাথপুরে পাঁচ হাজার ৮০৫টি, এরমধ্যে গাভী ৯৪৫টি, ষাঁড় তিন হাজার ৩২৫টি, মহিষ ৭৪টি, ছাগল ৯৬০টি, ভেড়া ৫০১টি, যার বাজার মূল্য ৪০ কোটি ৮৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা। জামালগঞ্জে দুই হাজার ৮৮৯টি, এরমধ্যে গাভী ৪২৪টি, ষাঁড় এক হাজার ৭৬৩টি, মহিষ ২৩টি, ছাগল ৪৩৬টি ভেড়া ২৪৩টি, যার বাজার মূল্য ২০ কোটি ৭০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। তাহিরপুরে দুই হাজার ৯১২টি, এরমধ্যে গাভী ৪৩৩টি, ষাঁড় এক হাজার ৭৭৮টি, মহিষ ২৭টি, ছাগল ৪৩৯টি, ভেড়া ২৩৫টি, যার বাজার মূল্য ২০ কোটি ৯৫ লাখ আট হাজার টাকা। বিশ্বম্ভরপুরে তিন হাজার ১৯৫টি, এরমধ্যে গাভী ৩৬১টি, ষাঁড় দুই হাজার ১০৮টি, মহিষ ২২টি, ছাগল ৪২৫টি, ভেড়া ২৭৯টি, যার বাজার মূল্য ২৩ কোটি ২৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। দিরাইয়ে চার হাজার ২৩৪টি, এরমধ্যে গাভী ৮২৫টি, ষাঁড় দুই হাজার ৫০৫টি, মহিষ ২৯টি, ছাগল ৫৪৬টি, ভেড়া ৩২৯টি, যার বাজার মূল্য ৩১ কোটি ২৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। দোয়ারা বাজারে দুই হাজার ৮৮২টি, এরমধ্যে গাভী ৪৬৪টি, ষাঁড় এক হাজার ৭৪৮টি, মহিষ ২৫টি, ছাগল ৪১৮টি, ভেড়া ২২৭টি, যার বাজার মূল্য ২০ কোটি ৯০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ধর্মপাশায় পাঁচ হাজার ৬০৮টি, এরমধ্যে গাভী ৪১০টি, ষাঁড় তিন হাজার ৯৫০টি, মহিষ ২৮টি, ছাগল ৮৬৪টি, ভেড়া ৩৫৬টি, যার বাজার মূল্য ৪০ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। শাল্লায় ৪৩৬টি, এরমধ্যে গাভী ৫০টি, ষাঁড় ২৪০টি, মহিষ দুইটি, ছাগল ৯৬টি, ভেড়া ৪৮, যার বাজার মূল্য দুই কোটি ৮০ লাখ আট হাজার টাকা। শান্তিগঞ্জে পাঁচ হাজার ৫৮টি, এরমধ্যে গাভী ৬০৩টি, ষাঁড় তিন হাজার ৪৩৯টি, মহিষ ২৮টি, ছাগল ৭২১টি, ভেড়া ২৬৭টি, যার বাজার মূল্য ৩৭ কোটি ৮১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
উল্লেখ্য, জেলায় চাহিদা ছিলো ৫৩ হাজার ৪০১টি, উদ্বৃত ছিলো দুই হাজার ৯০৭টি গবাদী পশু, এরমধ্যে ষাড় ২১ হাজার ১৭৬টি, বলদ ১১ হাজার ৮৯৭টি, গাভী ছয় হাজার ৮৪১টি, মহিষ ৪১৫টি, ছাগল সাত হাজার ৯৬৩টি, ভেড়া চার হাজার ২২১টি। এছাড়া জেলায় খামারীর সংখ্যা ৭৩৭টি, আর স্থায়ী হাটের সংখ্যা ২৬টি ও অস্থায়ী ৩৪টি। পাশাপাশি জেলায় ভেটেনারী মেডিকেল টিমের সংখ্যা ছিলো ১৯টি। তবে উদ্বৃতের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি তিন হাজার ৪১৭টি কুরবাণীর জন্য গবাদী পশুর মজুদ রয়েছে ছাতক উপজেলায়, সবচেয়ে কম ৮১টি রয়েছে জগন্নাথপুরে। আর ঘাটতির দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি দুই হাজার ৬৫৫টি গবাদী পশু জামালগঞ্জ উপজেলায়, সবচেয়ে কম ৯৮টি শান্তিগঞ্জ উপজেলায়।